সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই
সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

  • আপলোড সময় : ০৯-১১-২০২৫ ০৮:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১১-২০২৫ ০৮:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ফিটিংস লাগানের ফলে শুরুতেই ব্যবহারের অনুপযোগী।
শামস শামীম::
সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অফিসের লোকদের ম্যানেজ করে যাচ্ছেতাই কাজ করে বরাদ্দ তুলে নিচ্ছে ঠিকাদার। কোথাও কোথাও অফিসের সংশ্লিষ্টরাই নিজেরাই অন্যদের লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ বাস্তবায়ন করায় এবং ওয়াস ব্লকের ফিটিংস সামগ্রী নিম্নমানের দেওয়ায় ব্যবহারের আগেই দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে ওয়াস ব্লক ব্যবহার করতে পারছেন না স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্কুলের ওয়াস ব্লকের পানির মোটরও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ৪ বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা।
সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জিপিএস (গভর্মেন্ট প্রাইমারি স্কুল), এনএনজিপিএস (নন গভর্মেন্ট প্রাইমারি স্কুল) ও পিডিইপি-৪ প্রকল্পে জেলায় ৯১২টি ওয়াস ব্লক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে প্রায় ৪ বছর আগে। কোথাও এক তলা, কোথাও দোতলা ও কোথাও ৩ তলাবিশিষ্ট ওয়াস ব্লক বিদ্যালয় ভবনের সঙ্গেই নির্মাণ করে দিচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওয়াস ব্লক প্রতিটিতে ১৪-২০ লাখ করে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারাসহ একটি সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের নাম দিয়ে নিজেরা যাচ্ছেতাই কাজ করে বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু ওয়াস ব্লক নয়, গভীর ও অগভীর নলকূপের কাজও তারা নিজেরাই করছে। সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নলকূপ বিতরণের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক খাবার আদায় করে নেওয়া, নলকূপের তলা পাকা করতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে তারা।
শান্তিগঞ্জের সাবেক উপজেলা কর্মকর্তা আব্দুর রব ও শাল্লা উপজেলা কর্মকর্তা রাশিদুল হাসান নিজেই বেনামে ঠিকাদারি করেন এমন অভিযোগ আছে।
একাধিক স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, ওয়াস ব্লকের কাজ খুবই নিম্নমানের করা হচ্ছে। স্কুলের পুরনো ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ওয়াস ব্লক যুক্ত করে নির্মাণ করে দিচ্ছে। নির্মাণকাজে প্রাক্কলন অনুযায়ী রড, সিমেন্ট, বালু, পাথর, স্যানিটেশন ও ওয়াস রুমের ফিটিংস সামগ্রী ব্যবহার করছেনা। যার ফলে কাজ টেকসই হচ্ছেনা। নিয়মানুযায়ী কাজ না করায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ওয়াস ব্লক। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহমদাবাদ ইচ্ছারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানাযায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ওয়াস ব্লকের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদার। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর আর কাজ শেষ করছেনা ঠিকাদার। সদর উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণকাজ করা হয় ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে। নিম্নমানের কাজ করায় ওয়াস ব্লক ব্যবহার করতে পারছেন না স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ফিটিংস সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় দেবে গেছে। এখানে যেসব নিম্নমানের ফিটিংস সামগ্রী দিয়েছে তা এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ২০২২ সালে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগও করেছিল।
মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিক মিয়া বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে আমাদের ওয়াস ব্লক নির্মাণ করে দিয়েছিল। নিম্নমানের কাজ ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। এখন আবার সামান্য বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে।
সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমীন মজুমদার বলেন, আমাদের ওয়াস ব্লকের একটি কোণা দেবে যাচ্ছে। পুরনো ওয়াস ব্লকে ২০২২ সালে নিম্নমানের ফিটিংস সামগ্রী যখন দেয় তখন আমি অভিযোগও করেছিলাম।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা কোনও অনিয়মে জড়িত নই। কোথাও অনিয়ম হলে স্পেসিফিক বললে ব্যবস্থা নেব। অফিসের লোকজন কোনও ঠিকাদারি কাজে যুক্ত নয় বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাইলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে বলেন। পরে তিনি আংশিক তথ্য দেন। তিনি বলেন, এই কাজটি এখনো চলমান আছে। কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, কোথাও অনিয়ম হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স